দেশীয় আম সবার প্রিয় ফল। তবে পোকায় ভরপুর থাকায় অনেক সময় দেশি আম খেতে সমস্যা হয়। আকারেও বড় হয় না, হৃষ্টপুষ্ট থাকে না এবং স্বাদেও কমে যায়। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দিতে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র ব্যাগিং পদ্ধতি চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে আম একটু বড় হলেই প্রতিটি আমকে বিশেষ ব্যাগ দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়। এতে আমের গায়ে পোকা বা ছত্রাক বসতে পারে না। ফলে আম পোকামুক্ত থাকে, পাশাপাশি হৃষ্টপুষ্ট ও সুস্বাদু হয়।
কৃষক মাঠ দিবসে ব্যাগিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ
আমের ব্যাগিং পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রাইখালীর পক্ষ থেকে কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। কাপ্তাই উপজেলার ৮০ জন নির্বাচিত কৃষক-কিষানি এই মাঠ দিবসে অংশ নেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) উদ্ভাবিত বারি-আম ৪ উৎপাদন প্রযুক্তি ও কলাকৌশল শীর্ষক এই আয়োজনে কৃষকদের বারি আম-৪ বাগান পরিদর্শনে নেওয়া হয়। ভালো ফলন পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে মাঠে হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর ড. মো. ফারুক হোসেন খান কৃষকদের ব্যাগিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, বিএআরআই সারা দেশে ধানের ফলন ঠিক রেখে ২ লাখ হেক্টর জমিতে অন্যান্য ফলের উৎপাদন বাড়াতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঠ দিবসে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হচ্ছে।
পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করে বারি আম-৪ সহ দেশীয় প্রজাতির আম চাষ করেও সুফল পাওয়া যায়। বিএআরআই উদ্ভাবিত বারি আম-৪ চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। আগ্রহী কৃষকদের বিনা মূল্যে বারি আম-৪-এর কলম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ব্যাগিংয়ের জন্য বিশেষ ব্যাগ কৃষকদের স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, এই ব্যাগ যথাযথ যত্নে ব্যবহার করলে কয়েকবার ব্যবহার করা সম্ভব। তিনি সবাইকে বারি আম-৪ উৎপাদনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।



