আগামীকাল বুধবার (২০ মে) বিশ্বব্যাপী পালিত হবে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস। ওজন ও পরিমাপের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পরিমাপ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।
দিবসটি উপলক্ষে বিএসটিআইর উদ্যোগ
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক পরিমাপবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস অ্যান্ড মেজার্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব লিগ্যাল মেট্রোলজির প্রধানরা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
মেট্রোলজির গুরুত্ব
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোলজি বা পরিমাপ বিজ্ঞান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য পরিমাপ ছাড়া ন্যায্য বাণিজ্য, মানসম্মত উৎপাদন এবং কার্যকর নীতি নির্ধারণ সম্ভব নয়।
বিএসটিআইয়ের ভূমিকা
বিএসটিআই জানায়, জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দেশে পণ্যের মান নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ওজন ও পরিমাপের নির্ভুলতা বজায় রাখা, মেট্রিক পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক এসআই ইউনিট বাস্তবায়ন এবং লিগ্যাল মেট্রোলজি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া বিএসটিআই’র অধীনে প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক ন্যাশনাল মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি জাতীয় পরিমাপ মানদণ্ড সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিতকরণ এবং ক্যালিব্রেশন সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় গুণগত মান অবকাঠামো
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে শক্তিশালী ন্যাশনাল কোয়ালিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ‘জাতীয় গুণগত মান (পণ্য) ও সেবা নীতি’ অনুযায়ী বাংলাদেশের এ অবকাঠামো চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে— মানকরণ, মেট্রোলজি, কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্ট বা পরীক্ষণ এবং অ্যাক্রেডিটেশন।
কর্মসূচি
বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএসটিআই’র প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোতে আলোচনা সভা ও প্রচারমূলক কার্যক্রম আয়োজন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার, মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) প্রেরণ এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



