ঈদের আগে যশোরের শার্শায় পশুর হাটে ক্রেতা সংকট
ঈদের আগে শার্শায় পশুর হাটে ক্রেতা সংকট

ঈদুল আজহার মাত্র ১০ দিন বাকি থাকলেও যশোরের শার্শা উপজেলায় পশুর হাটে বেচাকেনা তেমন জমে উঠেনি। পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

সাতমাইল পশুর হাটের চিত্র

সাতমাইল পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ নিয়ে হাট ভর্তি হয়ে গেছে। তবে বেচাকেনা ছিল লক্ষণীয়ভাবে কম। মাত্র কয়েকজন ক্রেতা পশু দেখছিলেন এবং দরদাম করছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন না।

শার্শায় পশু সরবরাহ ও চাহিদা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় এ বছর প্রায় ১৬ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ১০০টি গরু, ২ হাজার ৩০০টি ছাগল এবং ৯৫০টি মহিষ রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার ৫২৬টি পশু, যা সরবরাহের তুলনায় কম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলায় ১ হাজার ১৩১টি গবাদিপশুর খামার রয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি নিবন্ধিত বড় খামার এবং বাকিগুলো ছোট আকারের কৃষক-পরিচালিত খামার। ঈদ উপলক্ষে এই খামারগুলো থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে পশু সরবরাহ করা হয়েছে।

হাটে ক্রেতা কম থাকার কারণ

শার্শায় দুটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে—সাতমাইল ও নাভারন। এ বছর উভয় হাটেই ক্রেতার উপস্থিতি কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধান কাটার মৌসুম চলায় গ্রামীণ ক্রেতারা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় হাটে ভিড় কমেছে।

ফলে পশু বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। যে পশু ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকায়। দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকার দামি পশুও পাওয়া যাচ্ছে, তবে চাহিদা সীমিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারিদের উদ্বেগ

খামারিরা আশঙ্কা করছেন, চাহিদা কম থাকলে তাদের কম দামে পশু বিক্রি করতে হতে পারে, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে। অনেক খামারি খাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে এবং মুনাফা কমিয়েছে। কেউ কেউ বন্যা এবং কৃষি মৌসুমের কারণে উৎসবের আগ্রহ কমে যাওয়ার কথাও বলেছেন।

সাতমাইল হাটে পশু নিয়ে আসা খামারি আসাদুজ্জামান জানান, তিনি প্রচুর পরিশ্রম করে পশু এনেছেন কিন্তু এখনো বিক্রি করতে পারেননি। বর্তমান দর তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম, যা বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন করে তুলেছে।

হাট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

সাতমাইল হাটের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, পশুর কোনো ঘাটতি না থাকলেও এ বছর ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম, যা খামারি ও ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে ক্রেতাদের হাটে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, পশু প্রবেশ ফি ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপু কুমার সাহা জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পশুর স্বাস্থ্য ও বাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। স্থায়ী হাটের পাশাপাশি স্থানীয় খামার থেকেও পশু বিক্রি হচ্ছে।

পর্যাপ্ত সরবরাহ ও স্থিতিশীল দাম থাকলেও ক্রেতার অভাবে খামারিরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ঈদ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে যে, সর্বোচ্চ বিক্রির সময় পার হয়ে যেতে পারে প্রত্যাশিত রিটার্ন ছাড়াই।