মক্কা ও মদিনা শুধু ইসলামের ইতিহাসের কেন্দ্র নয়, বরং দোয়া কবুলের বিশেষ শহর হিসেবেও পরিচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকে এখানকার এমন কিছু নির্দিষ্ট স্থান ও মুহূর্তের কথা জানা যায়, যেখানে দোয়া কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। নিচে সেসব স্থান ও মুহূর্তের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।
১. মসজিদুল হারাম
মক্কার কেন্দ্রে অবস্থিত এই পবিত্র মসজিদে এক রাকাত নামাজ অন্য যেকোনো মসজিদের এক লাখ রাকাতের সমান। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬) ইবাদতের মর্যাদা যেখানে এত বেশি, সেখানে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। তাই মুসলমানদের জন্য এখানে বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. তাওয়াফের সময়
কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফ করার সময় দোয়া কবুল হয়। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২) তাই তাওয়াফরত অবস্থায় দোয়া করার গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. মুলতাজাম
কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী অংশ হলো মুলতাজাম। রাসুল (সা.) এখানে বুক ও মুখ লাগিয়ে দোয়া করেছেন। সাহাবায়ে কেরামও এখানে দোয়া করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭) তাই মুলতাজামে দোয়া করা মুস্তাহাব।
৪. সাফা ও মারওয়া
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ি করা হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) তাই সায়ির সময় দোয়া করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
৫. আরাফার দিন
আরাফার ময়দানে অবস্থান হজের মূল রুকন। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫) তাই আরাফার দিন ইবাদত ও দোয়ায় মনোনিবেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. মুজদালিফা
আরাফা থেকে ফিরে হাজিরা যেখানে রাত কাটান, সেটিই মুজদালিফা বা ‘মাশআরুল হারাম’। এখানে ফজরের নামাজের পর নবীজি (সা.) দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দোয়া করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) তাই মুজদালিফায় দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৭. মিনা প্রান্তর
মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের (জামারাত) পর দোয়া করা সুন্নত। রাসুল (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপ শেষে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২)। তাই জামারাতের পর দোয়া করা মুস্তাহাব।
৮. জমজমের পানি
জমজম কূপের পানি আল্লাহর এক বরকতময় নেয়ামত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা পূরণ হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২) তাই নির্দিষ্ট নিয়ত করে এই পানি পান ও দোয়া করা উচিত।
৯. মাকামে ইবরাহিম
যে পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) কাবাঘর নির্মাণ করেছিলেন, সেটিই মাকামে ইবরাহিম। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার প্রত্যাশা বেশি থাকে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১২৫) তাই এ স্থানে ইবাদত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি
মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মাঝের অংশকে রিয়াজুল জান্নাহ (জান্নাতের বাগান) বলা হয়। নবীজি (সা.) এখানে নামাজ ও দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন। এছাড়া পুরো মসজিদে নববিতেই দোয়া ও ইবাদত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫) তাই মদিনায় আগত মুসলমানদের জন্য এ স্থানে দোয়া করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা



