সাতক্ষীরার হিমসাগর আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ শুক্রবার জেলায় শুরু হয়েছে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। প্রথম দিনেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ভরে গেছে হিমসাগর আমে।
বাজারে চাষীদের ভিড়
সকাল আটটার দিকে সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে আমভর্তি ক্রেট নিয়ে দীর্ঘ সারি। বাজারের ভেতরে ঢোকারও যেন জায়গা নেই। পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের জন্য, কেউ দূরের আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর জন্য মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত।
আম সংগ্রহের সময়সূচি
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করে। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ মে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ দেশি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়। আজ শুরু হলো সবচেয়ে প্রতীক্ষিত হিমসাগর আম সংগ্রহ।
পাইকারদের প্রতিক্রিয়া
গাজীপুর থেকে আসা পাইকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা কদর আছে। রং, ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্য ঢাকায় এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশি করে কিনছি।’ তিনি জানান, আগে বাজারে আসা গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাস আম তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে হিমসাগরের চাহিদা সব সময়ই বেশি। এবার প্রথম দিনেই বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ধারণা তাঁর।
নাটোর থেকে আসা আরেক পাইকার আবদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘এক যুগ ধরে সাতক্ষীরার আম কিনছি। বিশেষ করে হিমসাগরের জন্যই এখানে আসা। এখানকার আমের স্বাদ আলাদা।’
স্থানীয় ক্রেতার অভিমত
স্থানীয় ক্রেতা দিলীপ মণ্ডল বলেন, বাজারে হিমসাগর উঠলেই বোঝা যায়, গ্রীষ্মকাল সত্যিই এসে গেছে। এই আমের স্বাদ আর ঘ্রাণ অন্য আমের মতো নয়। জেলার বাইরের আত্মীয়স্বজনের জন্য আম পাঠাতে তিনি বাজারে এসেছেন।
উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই হিমসাগর। বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমের বড় অংশও এই জাতের। চলতি মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য
অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে ধাপে ধাপে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হলো। ল্যাংড়া আম সংগ্রহ শুরু হবে ২৭ মে। আর ৫ জুন থেকে বাজারে আসবে আম্রপালি ও মল্লিকা।



