কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রমজান আলী, করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে বক্তারা শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য তুলে ধরে এর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ফটক নির্মাণসহ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজের মান ও পরিধি অনুযায়ী ব্যয় আরও বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে ঐতিহাসিক এ ঈদগাহের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি আগত লাখো মুসল্লির নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য
কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাতের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতি ঈদে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো মুসল্লি এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, নদীর পাড়, বাড়ির উঠান ও ছাদেও মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঈদগাহের পরিসর বৃদ্ধি ও সৌন্দর্যবর্ধনের।
নামকরণের ইতিহাস
শোলাকিয়া ঈদগাহের নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানা জনশ্রুতি। একটি মতে, মোগল আমলে এ এলাকার পরগনার রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ’ টাকা। সেখান থেকেই কালের পরিক্রমায় ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে ঈদগাহটি ‘শোয়ালাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়, যা পরে শোলাকিয়ায় রূপ নেয়। কিশোরগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যবিষয়ক গ্রন্থেও এ দুটি বর্ণনার উল্লেখ আছে।
আগামী পবিত্র ঈদুল আজহায় শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯৯তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।



