দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এ সুবিধা কার্যকর হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ খবরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হলেও দেশের বিপুল সংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।
বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য উদ্যোগ নেই
সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে— দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কোনো ধরনের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না। মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, তাদের জন্যও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ও কর্মসংস্থানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার নতুন পে স্কেল একবারে নয়, বরং কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সরকারের আশা, নতুন বেতনকাঠামো জনপ্রশাসনে কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক হবে।
বেসরকারি খাতের দাবি ও বাস্তবতা
অন্যদিকে দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই বেসরকারি খাতনির্ভর। শিল্প, তৈরি পোশাক, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সমন্বিত চাকরিনীতি, সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। কয়েক বছর আগে বেসরকারি খাতের জন্য একটি ‘সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনায় আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী মনে করছেন, সরকারি কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্যও ন্যূনতম বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা, উৎসব ভাতা এবং শ্রমবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
সরকারের অবস্থান
এ বিষয়ে সরকারের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও বেসরকারি খাতের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সুবিধা বা পৃথক বেতন কাঠামোর পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। তবে শ্রমনীতি সংস্কার এবং বেসরকারি কর্মীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে।



