দক্ষ নারী চালকের ঘাটতি পূরণে ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষণ
দক্ষ নারী চালকের ঘাটতি পূরণে ব্র্যাকের উদ্যোগ

বাংলাদেশে দক্ষ নারী চালকের চাহিদা বাড়লেও প্রশিক্ষিত নারী চালকের সংখ্যা এখনও কম। পেশাদার নারী চালক এখনও বিরল। বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নারী চালকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এই পরিস্থিতিতে নারীদের চালক পেশায় সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে গতিশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্র্যাকের আয়োজনে নারী চালকদের সনদ প্রদান

মঙ্গলবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে ব্র্যাক সেন্টারে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আয়োজনে 'নারী চালকের চাকা: অর্জন উদ্যাপন, সড়ক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন এগিয়ে নেওয়া' শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে পেশাদার ড্রাইভার প্রশিক্ষণ ও সনদপ্রাপ্ত নারী চালকদের সম্মানিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আনা মিনজ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ১০ জন নারীকে সনদ দেওয়া হয়। তারা এখন পেশাদার চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে প্রস্তুত।

তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণার্থীরা তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। এতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ড্রাইভিং শিক্ষা দেওয়া হয়। ব্র্যাক জানিয়েছে, তাদের ড্রাইভিং স্কুল এ পর্যন্ত ১৫৯ জন নারীকে পেশাদার চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের ড্রাইভিং, জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য: সামাজিক বাধা দূরীকরণে সরকারি উদ্যোগ

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সামাজিক বাধা ও স্টেরিওটাইপের কারণে নারীদের পরিবহন খাতে অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ছিল। সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও গণপরিবহন আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি শুধুমাত্র নারীদের জন্য বাস সার্ভিস, পেশাদার ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও লাইসেন্সিং সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ব্র্যাক সরকারের পাশে থেকে জাতীয় উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এমপি আনা মিনজ: দুটি বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য আনা মিনজ উদ্যোগটিকে নারী ক্ষমতায়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তিনি নারী চালকদের জন্য দুটি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন। প্রথমত, সমাজ এখনও বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের চালক হিসেবে নারীদের পুরোপুরি গ্রহণ করেনি, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করছে। দ্বিতীয়ত, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা এখনও অপ্রতুল। এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ব্র্যাক-প্রশিক্ষিত নারী চালকরা সরকারের পরিকল্পিত নারীকেন্দ্রিক গণপরিবহন সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান: নারী-বান্ধব লাইসেন্সিং ব্যবস্থা

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নারী যাত্রী ও চালকদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশ্বাস দেন যে যোগ্য নারী চালকরা লাইসেন্স পেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং লাইসেন্সিং ব্যবস্থাকে আরও নারী-বান্ধব করার চেষ্টা চলছে।

তামারা হাসান আবেদ: অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহনের অঙ্গীকার

সভাপতি তামারা হাসান আবেদ বলেন, অনুষ্ঠানটি নারী ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কাজ করছে। দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালক তৈরি এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলের অগ্রগতি

ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসেন বলেন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ সড়ক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যার ফলে এই কর্মসূচি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুল ১৩ হাজার ৫০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীকে ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এবং ১২ হাজার ৫০০-এর বেশি ব্যক্তিকে সাধারণ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এছাড়া ৪০৯ জন ড্রাইভিং প্রশিক্ষককেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।