নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে দুজন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ফতুল্লার ভোলাইল গেদ্দারবাজার এলাকায় লালন মিয়ার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন ফতুল্লার দেওভোগ নুর মসজিদ এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে রানা (১৯) এবং পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার ভাংরা গ্রামের আলতাব মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা (৩৫)। দুজনই স্থানীয় নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, লালন মিয়ার বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। সম্প্রতি বাড়ির ভেতরে একটি সেপটিক ট্যাংকের ছাদ ঢালাই করা হয়েছিল। ওই ছাদের সাটারিংয়ের কাঠ খুলতে প্রথমে রানা ট্যাংকিতে নামেন। তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে দেলোয়ার মৃধাও ট্যাংকিতে নামেন।
ট্যাংকির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। ভয়ে অন্য শ্রমিকরা ট্যাংকিতে না নেমে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্যাংকি থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করেন।
তদন্ত ও পরবর্তী অবস্থা
পুলিশের একটি টিম ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কাজ করছে। নিহতদের লাশ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় শোকাহত হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
নির্মাণশ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এবং বিষাক্ত পরিবেশে কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন না করাই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখা।



