জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল–সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া, বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
প্রথম শ্রেণিতে শূন্যপদের সংখ্যা
গতকাল বুধবার সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম শ্রেণির শূন্য পদ রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। এটি সরকারি পদগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা।
শ্রেণি-ওয়ারি বিশ্লেষণ
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল–সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্ট ২০২৪ মোতাবেক সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসসমূহের শ্রেণি-ওয়ারি কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা এবং শূন্য পদের সংখ্যা নিম্নরূপ—
- কর্মরত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা/কর্মচারী ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। প্রথম শ্রেণির শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।
- দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন। দ্বিতীয় শ্রেণির শূন্য পদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি।
- তৃতীয় শ্রেণির কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন। তৃতীয় শ্রেণির শূন্য পদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি।
- চতুর্থ শ্রেণির কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন। চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদ ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি।
এ ছাড়া, অন্য পদে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারী ৭ হাজার ৯৮০ জন এবং শূন্য পদ রয়েছে ৮ হাজার ১৩৬টি। এই তথ্যগুলো সরকারি সেবা খাতের জনবল ব্যবস্থাপনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
সরকারি পদে শূন্যপদের প্রভাব
সরকারি পদে এত বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ থাকা জনসেবার মান ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির পদগুলোর শূন্যতা উচ্চস্তরের প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব বা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। প্রতিমন্ত্রীর এই তথ্য প্রকাশ সরকারি পদ পূরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
সরকারি কর্মচারী নিয়োগ ও পদ পূরণের বিষয়টি দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করা গেলে সরকারি সেবার গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে।



