কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল (Paypal) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আইডি কার্ড ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী সংসদে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তিতে কয়েক হাজার তরুণকে প্রশিক্ষিত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭,৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর ৫ বছরে ১,০০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করবে।
অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ ও কমিটি গঠন
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহের কার্যকর পরিচালনা এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১,০০০ জন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিসিসির মাধ্যমে ৫,০২০ জন চাকুরীপ্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিম্নলিখিত প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
- এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)
- মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট
- পাইথন প্রোগ্রামিং
- ডাটা অ্যানালাইটিক্স
- সাইবার সিকিউরিটি
এছাড়াও ১ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৪০ জনকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ওয়াইফাই প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণা দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সুযোগ বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



