অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রাজস্ব প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে নিবন্ধিত রাজস্বদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬ জন ও প্রতিষ্ঠানে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯২১ বেশি।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে তথ্য প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
লিখিত প্রশ্নে লুৎফুল হালে মাজেদ জানতে চান, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কত, তা অর্জিত হয়েছে কি-না এবং রাজস্ব প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি-না।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন
লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।
মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সে হিসাবে এপ্রিল পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
রাজস্বদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ
রাজস্বদাতার সংখ্যা বাড়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রী জানান, করদাতা ও রাজস্ব প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে নিবন্ধিত রাজস্বদাতার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এনবিআর কর-জাল সম্প্রসারণ, নতুন করদাতা শনাক্তকরণ এবং অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্বদাতার সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
গত অর্থবছরের তুলনায় অগ্রগতি
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল এক কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৫। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক বছরে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯২১ নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় এসেছে, যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।



