জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন: গেজেট প্রকাশে দেরি, ধাপে ধাপে বাড়বে বেতন
জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন: গেজেট প্রকাশে দেরি, ধাপে ধাপে বাড়বে বেতন

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিলেও এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেনি সরকার। ফলে কোন গ্রেডের কর্মচারীর বেতন কত বাড়ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

পে স্কেল বাস্তবায়নে দেরি কেন?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও গেজেট প্রকাশের আগে কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে বকেয়াসহ পরিশোধের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘যথাসময়েই’ বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন কাঠামো।

কমিশনের সুপারিশ ও বর্তমান অবস্থা

২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠিত হয়। ওই কমিশন ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া বৈশাখি ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং যাতায়াত ভাতায় সংস্কারের কথা বলা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে গেজেট তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় রেখে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নটা করা হবে।’ প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি এবং তৃতীয় বছরে ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন গ্রেডের কত বেতন হবে, তা এখনই জানাতে রাজি হননি তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতামত

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত পে কমিশনের প্রস্তাবনার সঙ্গে বর্তমান অর্থনীতির পার্থক্য যাচাই করতে হবে। বেতন বৃদ্ধি করলেই হবে না, দেশের অর্থনীতিতে সেটি সহনশীল কিনা নিশ্চিত করতে হবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বিশাল আর্থিক দায় তৈরি হবে, কিন্তু এটাকে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জরুরি।’

বাজেটে বরাদ্দ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। জনপ্রশাসন-নিট খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।