ভ্যাট অডিটে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত ৬০০ প্রতিষ্ঠান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাছাই করা হয়েছে।
নতুন স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মডিউল
ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-ভ্যাট সিস্টেমে একটি নতুন স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমে নির্ধারিত ২০টি ঝুঁকি নির্দেশকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট অডিটের জন্য সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।
এনবিআর বলছে, ঝুঁকির স্তর বিবেচনায় প্রতিটি নির্দেশকের জন্য নির্দিষ্ট গুরুত্ব নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত হয়েছে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি মেশিন-ভিত্তিক, তাই কোনো মানবীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ফলে করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের অডিট নির্বাচনে স্বচ্ছতার দাবি পূরণ হয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করে।
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও শ্রেণিবিভাগ
নতুন সিস্টেমের অধীনে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৬০০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ৪০৫টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান
- ৯৮টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
- ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান
- ৩২টি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যদি এইভাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিটের পর প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া যায়, তাহলে ঝুঁকি নির্দেশক ও তাদের গুরুত্ব পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
এনবিআর আশা করে, অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচনের প্রবর্তন ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বাড়াবে। একই সাথে এটি করদাতা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে সহায়ক হবে।
এই পদক্ষেপটি ভ্যাট প্রশাসনে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে মানবীয় ভুল বা পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



