চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে যে চলতি ২০২৫-২৬ করবছরে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক
এনবিআর একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এই পদক্ষেপটি কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে, এই আদেশ থেকে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা
- শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা
- বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা
- মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকগণ
ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন ও দাখিলের হার
গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি জনগণের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে, ৪০ লাখের বেশি করদাতা ইতিমধ্যেই ই-রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করেছেন, যা করবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে একটি ইতিবাচক ধারা নির্দেশ করে।
জরিমানা এড়াতে এনবিআরের উদ্যোগ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের জরিমানা এড়াতে ইতিমধ্যেই ই-রিটার্ন দাখিলের জন্য এসএমএস পাঠিয়েছে। এই যোগাযোগটি করদাতাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এনবিআর সব শ্রেণির ব্যক্তি করদাতাকে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, যা কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
এই ডিজিটাল উদ্যোগটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা কর ফাঁকি রোধ এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



