যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) প্রস্তাব নিয়ে যখন সিলিকন ভ্যালিতে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গেছে, তখন এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের গলায় শোনা গেলো একেবারেই ভিন্ন সুর। ২০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক এই ধনকুবেরকে যখন কর নিয়ে প্রশ্ন করা হলো, তিনি স্রেফ হেসে বললেন, ‘এটা ঠিক আছে। আমি এটি নিয়ে একবারও ভাবিনি।’
হুয়াংয়ের অবস্থান
হুয়াং একা নন, তার মতো একদল অতি-ধনী এখন অন্য ধনকুবেরদের বলছেন ‘বেশি কথা না বলে কর দিন’। হুয়াংয়ের মতে, কর দেওয়া মানে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। রসিকতা করে তিনি আরও বলেছেন যে, এই টাকা দিয়ে যেন ১০১ নম্বর রুটের গর্তগুলো মেরামত করা হয়।
বিরোধিতাকারী ধনকুবেররা
তবে আমেরিকার সব ধনকুবের হুয়াংয়ের মতো উদার নন। ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রস্তাব ঠেকাতে সের্গেই ব্রিন ও পিটার থিয়েলের মতো টাইটানরা লাখ লাখ ডলার খরচ করছেন। কেন গ্রিফিন বা স্টিভেন রথদের মতো ধনকুবেররা ধনীদের উপর কর আরোপের বিষয়টিকে দেখছেন ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ কিমবার্লি ফিলিপস-ফেইনের মতে, এই ধনকুবেররা মনে করেন কর বাড়ানোর প্রস্তাব তাদের ‘নৈতিক গুণাবলি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
প্রজন্মগত বিভক্তি
ধনকুবেরদের এই বিভক্তি মূলত রাজনৈতিক ও প্রজন্মগত। ওয়ারেন বাফেট বা বিল গেটসের মতো প্রবীণ ধনকুবেররা কর দেওয়াকে নাগরিক দায়িত্ব মনে করলেও তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করেন, সরকারের চেয়ে তারা নিজেরাই টাকার সঠিক ব্যবহার করতে পারবেন।
কর ফাঁকির চিত্র
প্রোপাব্লিকার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শীর্ষ ২৫ জন ধনকুবেরের সম্পদ ৪০১ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও তারা ফেডারেল আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৩.৪ শতাংশ। অধ্যাপক রে ম্যাডফের মতে, বর্তমান ব্যবস্থা কেবল বেতনভুক্ত কর্মীদের উপর বোঝা চাপায়, আর বিত্তবানরা কিছুই দেন না। এমনকি ইলন মাস্ক বা মার্ক জাকারবার্গের মতো সিইওরা নামমাত্র ১ ডলার বেতন নেন, কারণ তাদের আসল সম্পদ আসে শেয়ারের দাম থেকে, যার উপর করের হার অনেক কম।
রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ
ওয়াশিংটন, ম্যাসাচুসেটস ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখন আয়বৈষম্য কমাতে অতি-ধনীদের উপর করের বোঝা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কর বাড়লে ধনীরা অন্য রাজ্যে বা দেশে ব্যবসা সরিয়ে নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৯০ সালে ১২টি দেশে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ থাকলেও ২০২৪ সালে তা টিকে আছে মাত্র ৩টি দেশে। ফ্রান্স বা সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এই কর ব্যবস্থা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।



