সাতক্ষীরায় বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে দুই ফিলিং স্টেশনে জরিমানা
সাতক্ষীরা জেলায় সরকারি ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুইটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছেন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ বি খান ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা এবং লস্কর ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযান জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, যা জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযানের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোকে মজুতকৃত তেল আগের দামে বিক্রির নির্দেশ দেন। নতুন দামে তেল বিক্রির অনুমতি শুধুমাত্র ডিপো থেকে নতুন তেল আনার পরই দেওয়া হয়েছিল। তবে, সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন নতুন ও বাড়তি দামে তেল বিক্রি শুরু করে, যা ট্যাগ কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা প্রায় এক ঘণ্টা জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখেন, কিন্তু পরে আবারও নতুন দামে বিক্রি চালু করেন। এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন দ্রুত অভিযান শুরু করে এবং প্রথমেই দুটি স্টেশনকে জরিমানা করে।
জেলার জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দৈনিক জ্বালানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সকালে সাতক্ষীরা জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনে মোট এক লাখ ১ হাজার ৪৩২ লিটার ডিজেল, ৫৪ হাজার ৪৮৫ লিটার পেট্রোল এবং ২২ হাজার ৬৮৩ লিটার অকটেন মজুত ছিল। এই মজুতকৃত তেল আগের দামে বিক্রির নির্দেশ থাকলেও, স্টেশন কর্তৃপক্ষের বাড়তি দামে বিক্রির চেষ্টা অভিযানের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সহকারী কমিশনার শাহেদ হোসেন জানান, মজুত করা তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগে ফিলিং স্টেশনগুলোকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে এবং জেলাব্যাপী এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সরকারের নতুন জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ
উল্লেখ্য, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুসারে, অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন লিটার প্রতি ১৩৫ টাকা। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।



