বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক: মন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাংলাদেশ সরকারকেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা, কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কিনতে হয়। তাই দাম কিছুটা বাড়িয়ে যাতে সহনীয় জায়গায় থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
দাম বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব
সচিবালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, যা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকেই প্রভাবিত করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আমেরিকাও তেলের দাম ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রবণতা নির্দেশ করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে বাংলাদেশে এত দিন ধরে বাড়তি দামে আমদানি করে মজুত তৈরি করা হয়েছে। এতে যে বাড়তি খরচ হয়েছে, তার থেকে কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে এখন।’ তিনি আরও জানান, দাম বাড়ার পরও সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে, তবে ভর্তুকির সুনির্দিষ্ট হিসাব মন্ত্রণালয় পরে প্রকাশ করবে।
নতুন দাম নির্ধারণ ও কার্যকারিতা
গত শনিবার রাতে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।
- প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে।
- অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পেট্রলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার ফলে ভোক্তাদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।



