জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকারি ভর্তুকি হ্রাস
সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে, যার ফলে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা কমেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পণ্যের দাম নতুন করে বাড়বে কি না বা কতটা বাড়বে, তা এখনই স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না; অন্যান্য অনেক বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত থাকে।
বিশ্ববাজারে তেল ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্পের প্রায় সব ধরনের কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে বাজারে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পরও সরকার দাম না বাড়িয়ে জ্বালানি তেলে এত দিন যে ভর্তুকি দিচ্ছিল, তার প্রকৃত সুফল আসলে পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় এবং চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় ট্রাক, বাস থেকে শুরু করে সব ধরনের বাণিজ্যিক পরিবহনভাড়া ইতিমধ্যে কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে।
পরিবহন খাতে সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধি
বর্তমানে তেলের জন্য সব ধরনের যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য পরিবহনের যাত্রার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও যানবাহনের একধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে, ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বা ভাড়া বেড়ে গেছে। আগে যে ট্রাকের ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকারের উচিত তেল সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাহলে হয়তো পরিবহন খাতে গাড়ির যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি কাটবে এবং তখন ভাড়া নিয়েও প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়বে।
পণ্যের দাম নির্ধারণে বহুমুখী কারণ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোগ্যপণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি বেড়ে যাবে বলে মনে করা হয় না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর যেসব প্রতিষ্ঠান দাম কিছুটা সমন্বয় করেছে, তারা হয়তো এখন নতুন করে আবার দাম বাড়াবে না। তবে যারা এখনো দাম সমন্বয় করেনি তারা হয়তো এখন দাম সমন্বয় করবে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি শুধু তেলের দামের ওপর নির্ভর করে না; পণ্যের কাঁচামাল, ডলারের বিনিময় মূল্য, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয়—সব মিলিয়েই পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়।
সরকারের উচিত এখন তেল সরবরাহের ব্যবস্থার উন্নতি করা। তেলের জন্য পেট্রলপাম্পের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হলে গাড়িভাড়া ইতিমধ্যে যতটুকু বেড়েছে, তা দিয়ে তেলের বাড়তি দাম সমন্বয় হওয়ার কথা। নতুন করে পরিবহনভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা দেখা যায় না। তবে সরকার যদি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারে, তাহলে পরিবহনভাড়া নতুন করে আবার বাড়তে পারে।
এই বিশ্লেষণে মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, গ্রুপ পরিচালক, টি কে গ্রুপের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে।



