জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ নেই, জুন পর্যন্ত মজুত স্বাভাবিক: প্রতিমন্ত্রী
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও দেশে তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি সোমবার বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সরকারের ব্যবস্থায় জুন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “তেল নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সবাই তেল পাচ্ছে, সরবরাহ ও মজুত ঠিক আছে। হয়তো পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় অন্তত জুন মাস পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া, সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি; বরং ভর্তুকি দিয়ে বেশি দামে তেল কিনে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।
এ খাতে আগামী জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে সরকারের এই উদ্যোগের ফলে জনগণের জন্য জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে।
বগুড়ায় উন্নয়ন কর্মসূচি ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বগুড়া সফর নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২০ তারিখে সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। এ সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সবকিছু একা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়।” এছাড়া, মহাস্থান মোকামতলা এলাকায় একটি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যেখানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বহাল থাকবে এবং এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ভবিষ্যতে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন:
- জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
- সরকারের ভর্তুকি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জুন মাস পর্যন্ত কোনো সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
- বগুড়ায় উন্নয়ন প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
- সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
সর্বোপরি, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যায়, যা ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।



