ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বৃদ্ধি, আজ মধ্যরাত থেকে কার্যকর
ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বৃদ্ধি

ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বৃদ্ধি, আজ মধ্যরাত থেকে কার্যকর

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশে ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বৃদ্ধি করেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল এখন ৭০ টাকা ১০ পয়সার পরিবর্তে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সায় বিক্রি হবে। এই নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে বলে কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি ও আইনি ভিত্তি

রোববার (১২ এপ্রিল) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ (৪) ও ৩৪ (৬) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি ও বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়, মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের গড় দর এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মার্চ মাসের প্ল্যাটস সূচকভিত্তিক গড় মূল্য ও বিনিময় হার বিশ্লেষণ করে এপ্রিল মাসের জন্য নতুন দাম সুপারিশ করে। পরে ৫ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় সুপারিশটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রভাব ও আশঙ্কা

নতুন দামের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং জ্বালানিনির্ভর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দাম বৃদ্ধি শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, বিইআরসি দাবি করেছে যে আন্তর্জাতিক বাজার ও মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।