রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, চালকদের দুর্ভোগের শেষ নেই
রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, চালকদের দুর্ভোগ

রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, চালকদের দুর্ভোগের শেষ নেই

আরামবাগের এইচকে ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন প্রাইভেট কার চালক আরিফ হোসেন। আজ শনিবার দুপুরে গনগনে রোদের তাপে তিনি মরিয়া হয়ে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন। গাড়ির সামনের গ্লাসে গামছা দিয়ে ঢেকে রেখে তিনি যেভাবেই হোক আজ তেল নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তেলের দেখা নেই

বেলা ১১টার সময় রাজধানীর আরামবাগের মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কে আরিফ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে গেছেন, তেল পাননি। আজ সকাল ৬টার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তবুও তার সামনে ৬টি গাড়ি রয়েছে। বেলা ১১টা বাজলেও তিনি তেল পাননি।

আরিফ হোসেন বলেন, 'আজকে যেভাবে হোক তেল নিতেই হবে। তাই সবার আগে লাইনে দাঁড়াতে ভোরে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি আমার আগে ৫ থেকে ৬টি গাড়ি এসে সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছে। তবুও আশা করছি তেল পাব। সেটা যতই দেরি হোক।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র

রাজধানীর মতিঝিলের কারিম এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোটরসাইকেলের লাইন মতিঝিল থেকে ঘুরে বাফুফে ভবন পর্যন্ত চলে গেছে। এখানে মোটরসাইকেল চালক মো. সবুজ সকাল ৬টায় এসে সাড়ে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তেল পাননি।

রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে সকাল ১০টার দিকে ৯৪টি মোটরসাইকেল ও ৫৭টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই ফিলিং স্টেশনের কর্মী মো. শিপন হাতমাই বলেন, 'অকটেন হবে না, যারা পেট্রল নেবেন, শুধু তারা লাইনে দাঁড়ান।'

ফিলিং স্টেশনের অবস্থা

আরামবাগ এইচকে ফিলিং স্টেশনে বেলা ১১টার দিকে ১৫৮টি মোটরসাইকেল ও ১০৪টি প্রাইভেট কার অপেক্ষায় ছিল। রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আয়নাল হক জানান, তাঁদের পাম্পে সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন আসে। তিনি বলেন, 'আজকে যে তেল আছে, তা অল্প কিছু চালকদের দিতে পারবেন। কেউ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে তেল না পেলে মন খারাপ হবে, সে জন্য আগেই জানিয়ে দিচ্ছেন।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চালকরা দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পর আবার নিয়োগকর্তার কাজে যেতে হয়, ফলে বিশ্রাম পান না। এই পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।