জ্বালানি সংকটে দক্ষিণ এশিয়া, বাংলাদেশে ডিজেল-পেট্রোল আমদানি আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে
দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশে ডিজেল-পেট্রোল আমদানি

দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে ডিজেল-পেট্রোল আমদানি বৃদ্ধি

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ব্যাপক পরিমাণে জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এই সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৭১ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণ করা হলে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই জ্বালানি তেলের সরবরাহে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে সংকট মোকাবিলার জন্য।

এছাড়াও, ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ এবং নেপালও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও, বাংলাদেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে সরকারের নীতি

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ব্যাখ্যা করেছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে সতর্ক ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও শিল্পখাতের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি পরিকল্পনা ও দাম স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।