মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত, ডিজেল ১.৬৪ লাখ টন: মন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করছে।
জ্বালানি মজুতের বিস্তারিত পরিসংখ্যান
জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে মজুত থাকা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে ডিজেল। এর মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন, যা দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, অকটেনের মজুত রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ টন এবং পেট্রোলের মজুত ১৬ হাজার টন। তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসে আরো জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে, যা মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।
অবৈধ মজুদ বন্ধে ব্যাপক অভিযান
জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে অবৈধ মজুদ বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল। এই অভিযানগুলো জ্বালানি বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
জ্বালানি দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান
তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে বলেন, গত মাসে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে দাম বৃদ্ধি করেনি। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, মে মাসের জ্বালানির দাম নিয়ে বর্তমানে কাজ করা হচ্ছে। মন্ত্রীপরিষদে আলোচনার পর, প্রয়োজন দেখা দিলেই কেবল দাম বৃদ্ধি করা হবে, যা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
এই তথ্যগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



