জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাসের মজুত নিশ্চিত, নতুন উৎসের সন্ধান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্পষ্ট করেছেন যে আগামী তিন মাসের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় আমদানির উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বর্তমান মজুত ও সংরক্ষণ পরিস্থিতি
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে এপ্রিল মাসের জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুত রয়েছে। এছাড়াও, প্রায় তিন মাসের জন্য পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন উৎসের সন্ধান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
জ্বালানি তেল আমদানির জন্য নতুন ও সম্ভাবনাময় কিছু উৎস খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই উৎসগুলো ব্যবহার করে আগামী তিন মাসের চাহিদা সহজেই পূরণ করা সম্ভব হবে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে, এবং মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশা করছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
উদ্ধারকৃত জ্বালানি ও সরকারি পদক্ষেপ
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশে তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই নির্দেশনার অংশ হিসেবে শপিং মল বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দোকান মালিক সমিতির আবেদনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা
কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কৃষক তেল পেতে সমস্যায় পড়লে তা দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সর্বোপরি, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।



