জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অফিস-ব্যাংক-মার্কেটে নতুন সময়সূচি কার্যকর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক এবং বিপণিবিতানগুলোর জন্য নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা।
অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শনিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। আগে অফিসের সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, অর্থাৎ দৈনিক এক ঘণ্টা সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে বহাল থাকবে। তবে জরুরি পরিসেবাগুলো এই সময়সূচির বাইরে স্বাভাবিকভাবে কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যারা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বন্ধের সময়
সরকারের আরেকটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি সেবা ব্যতীত সকল বিপণিবিতান, অফিস ভবন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ কমানো এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই নিয়মটি দেশব্যাপী প্রযোজ্য হবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এর তদারকি করবে।
ব্যাংকিং খাতের সময়সূচি হ্রাস
এদিকে, ব্যাংকিং খাতেও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, আজ থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর এবং বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সময় কিছুটা সীমিত হলেও জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপগুলি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচি বহাল থাকতে পারে। নাগরিকদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তথ্য প্রদান করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



