মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, তবে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, তবে পর্যাপ্ত মজুদ দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপট

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও পড়তে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রী অফিস ও আদালতে যাতায়াতের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে গণপরিবহনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছে বলে অভিযোগও উঠেছে।

জ্বালানি মজুদের বর্তমান অবস্থা ও আমদানি পরিস্থিতি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং কোনো তীব্র সংকটের আশঙ্কা নেই। মার্চ মাসের ৮ তারিখের বিপিসির স্টক ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির মজুদ ১৩ থেকে ৭১ দিন পর্যন্ত টিকতে পারে। এক সপ্তাহ আগে এই মজুদ প্রায় ২১ দিনের জন্য পর্যাপ্ত বলে অনুমান করা হয়েছিল।

এনার্জি ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি বোঝাই একটি জাহাজ পৌঁছেছে এবং আরেকটি জাহাজ রাতের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। বিপিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের জন্য নির্ধারিত ১৪টি কার্গোর মধ্যে বেশিরভাগই ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছে গেছে, বাকিগুলো পথে রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও আমদানি পরিকল্পনা

পরবর্তী মাসের জন্য পরিকল্পিত ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরবরাহকারীরা বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানোর কথা বলেছেন। সম্ভাব্য কোনো ঘাটতি এড়াতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য বিপিসি জরুরি পরিকল্পনাও প্রস্তুত রেখেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হর্মুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে এনার্জি ডিভিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চীনের জাহাজগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকায় সেখানে কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই। পরবর্তী মাসের মধ্যে ২৮০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং জাহাজগুলো দেশে পৌঁছানো শুরু করেছে। এছাড়াও আরও ১০০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন জ্বালানির মজুদ পরিস্থিতি

বিপিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন জ্বালানির মজুদ পরিস্থিতি নিম্নরূপ:

  • ডিজেল: প্রায় ১৫৮,৯২১ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে, যা প্রায় ১৩ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
  • অকটেন: প্রায় ২৬,২৫১ মেট্রিক টন মজুদ, যা বাজারের প্রায় ২৫ দিনের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
  • পেট্রোল: প্রায় ২০,৬০৯ মেট্রিক টন মজুদ, যা প্রায় ১৭ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
  • ফার্নেস অয়েল: প্রায় ৬৭,৫০৯ মেট্রিক টন মজুদ, যা প্রায় ৪৫ দিনের সরবরাহ টিকিয়ে রাখতে সক্ষম।
  • জেট ফুয়েল: প্রায় ৬০,৬৯৮ মেট্রিক টন মজুদ, যা প্রায় ৪২ দিনের সরবরাহ সমর্থন করতে পারবে।
  • কেরোসিন: প্রায় ১৪,০৭৩ মেট্রিক টন মজুদ, যা প্রায় ৭১ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
  • মেরিন ফুয়েল: প্রায় ৫,০০৪ মেট্রিক টন মজুদ, যা প্রায় ১৯ দিনের সরবরাহ টিকিয়ে রাখতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশব্যাপী ডিপো ও স্টোরেজ সুবিধায় সংরক্ষিত স্টক এবং গড় দৈনিক বিক্রয়ের ভিত্তিতে এই সরবরাহের সময়কাল অনুমান করা হয়েছে। কর্পোরেশন নিশ্চিত করেছে যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভারত, ব্রুনাই ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ থেকে ডিজেল আনার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।