টানা ১৩২ টাকা বাড়ার পর জেট ফুয়েলের দাম ২২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত
টানা ১৩২ টাকা বাড়ার পর জেট ফুয়েলের দাম কমল ২২ টাকা

টানা তিন দফায় ১৩২ টাকা বাড়ার পর অবশেষে জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের দাম ২২৭ টাকা ০৮ পয়সা থেকে প্রায় ২২ টাকা কম।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দামও কমেছে

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত ৭ মে রাত থেকেই কার্যকর হবে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দামের উত্থান

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্চ মাসে। প্রথম দফায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে একলাফে দাম বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ২৪ মার্চ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ তিন দফায় মোট ১৩২ টাকা ১৫ পয়সা বেড়েছিল জেট ফুয়েলের দাম।

দাম কমানোর কারণ

বিইআরসি সভায় দাম কমানোর পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, যার প্রভাব দেশের জেট ফুয়েলের দামেও পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, জেট ফুয়েলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট মহল। তারা আশা করছেন, এতে বিমান ভাড়া কিছুটা কমতে পারে এবং যাত্রীদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আগের বাড়ানোর সময় যে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, এখন কমানোর সময়ও সেই একই যুক্তি প্রযোজ্য। তারা দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, দাম আরও কমানোর দাবি জানিয়েছে।