যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু
যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ চালু

ছয় দিন বন্ধ থাকার পর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।

মেরামত শেষে উৎপাদন শুরু

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান, শুক্রবার (১ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এই কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার পর ওই দিন থেকেই মেরামত কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা

এই কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই কেন্দ্র চালু হওয়ায় ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী ত্রুটি ও মেরামত

এর আগে গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) দিবাগত রাত ১০টা ২ মিনিটে এই ইউনিটের ৪টি কোল মিলের মধ্যে ২টি কোলমিল ভেঙে যায়। এতে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮টা ৭ মিনিটের দিকে কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর পর ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল। কিন্তু চালু হওয়ার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটির উৎপাদন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিন ইউনিটের বর্তমান অবস্থা

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র প্রথম ইউনিটের ওপর নির্ভর করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, চলতি মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট চালু হবে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এই ইউনিট চালুর জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিট চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত আসবে। এই ইউনিট চালু করতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ মিলিয়ন ডলার, যা চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কম বা বেশি হতে পারে।