প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তেলের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্যাংক, মোটরসাইকেল, বিমান, পরিবহন ট্রাক—সবকিছুতেই তেলচালিত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে থাকে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। অনেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে ‘দা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড অয়েল ওয়ার’ বা তেলের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বলে থাকেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তেলের ভূমিকা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তেলের ভূমিকা শুধু রসদ জোগানের বিষয় ছিল না; এটি ছিল যুদ্ধের এমন একটি নির্ধারক দিক, যা সামরিক কৌশল ঠিক করেছে এবং শেষ পর্যন্ত কে জিতবে, সেটাও অনেকাংশে নির্ধারণ করেছে। তেলের অভাবে অনেক দেশের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে।
তেলের কৌশলগত গুরুত্ব
যুদ্ধকালীন সময়ে তেলের উৎস দখল করা এবং সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তি উভয় পক্ষই তেলের জন্য লড়াই করেছে। জার্মানি ও জাপানের মতো দেশ তেলের অভাবে তাদের যুদ্ধযন্ত্র চালাতে হিমশিম খেয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পরাজয় ত্বরান্বিত করে।
তেলের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা আজও বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



