জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য বড় ইস্যু: সেনাপ্রধান
জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য বড় ইস্যু: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও দেশে দ্বিতীয় তেল শোধনাগার গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সেনাপ্রধানের বক্তব্য

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, দেশে বর্তমানে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারি থাকায় চাহিদার তুলনায় খুব সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পরিশোধন সম্ভব হয়। ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার

প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের আমদানি-রফতানির বড় অংশ সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নও প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি জাতীয় সমস্যা, যার সমাধানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর জানায়, গত ৫ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত ক্যাপস্টোন কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংলাপ ও ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্সটি অংশগ্রহণকারীদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সহায়ক হয়েছে।

কোর্সের উদ্দেশ্য

ক্যাপস্টোন কোর্সটি জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন ভাবনা, কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।