নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে এক হাজার ৫০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে পাচারের সময় তা জব্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক ও ডিজেল জব্দ করে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ছয়টার দিকে একটি কাভার্ডভ্যানে পাঁচটি ড্রামে করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল এবং একটি পিকআপ ভ্যানে ৫০ লিটার ডিজেল ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা তেল পরিবহণ আটকে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রায় প্রতিদিনই রাতে গোপনে তেল পাচার করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় গোপনে ডিজেল পরিবহণের সময় জনতার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জ্বালানি জব্দ করা হয়।
পুলিশ অভিযান
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার ওসি মো. দিদারুল ইসলাম। শ্যামগঞ্জ-দুর্গাপুর সড়কের আতকাপাড়া এলাকায় অবস্থিত গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে কাভার্ডভ্যানে করে ডিজেল ময়মনসিংহে পাচারের চেষ্টা চলছিল। অভিযানকালে কাভার্ডভ্যান থেকে এক হাজার ৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছোটন মিয়া (৩৫), শামীম আহমেদ (৪০) ও মফিজুল ইসলাম (৩৫) নামে তিনজনকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত
পরে সকাল নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পেট্রলিয়াম আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে তেল পাচারের দায়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসানকে (৩৭) দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ডিজেল হস্তান্তর
জব্দকৃত ডিজেল পরবর্তীতে স্থানীয় খাল খনন প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনিম জাহান জানান, আটককৃত তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জব্দকৃত ডিজেল স্থানীয় খাল খনন প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পূর্বের অভিযোগ
উল্লেখ্য, গিরিপথ ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ও বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে এই পাম্প থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই পেট্রল বিতরণের অভিযোগ ওঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনিম জাহান জানান, ট্যাগ অফিসার ও প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে পাম্প ম্যানেজার অনিয়মের মাধ্যমে পেট্রল বিক্রি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ম্যানেজার বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসান দাবি করেছিলেন, ভোররাতে একদল লোক ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তেল নিয়ে যায়।



