বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ার নতুন ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই নাগালের বাইরে চলে গেছে। তার ওপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, "সব কিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। সংসারের খরচ সামলাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।"
মানিকনগরের গৃহিণী রাহেলা বেগম বলেন, "আগে বাজারে গিয়ে তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করা যেতো। এখন প্রতিটি জিনিস কেনার আগে হিসাব করতে হয়।"
সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে। একই সময়ে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দামও লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি শুধু বিলের খরচ বাড়ায় না; এর প্রভাব কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বিপণন ও সেবা খাত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেটেই গিয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, "জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই চাপ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।"
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে এসবের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে পড়ে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতি আরও উসকে যায়।"
শুধু সাধারণ ভোক্তাই নয়, উদ্বেগে রয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারাও। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য সুরক্ষা কর্মসূচি এবং জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই চাপ কমানো সম্ভব হবে না। কারণ বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি।



