ভারতের বড় শহরগুলোতে আবারও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি) পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারে ৯০ পয়সা করে বাড়িয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছিল, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম মূল্যবৃদ্ধি। রাজ্যভেদে স্থানীয় করের ভিন্নতার কারণে তেলের চূড়ান্ত দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
দাম বাড়ার প্রভাব
পাঁচ দিনের মাথায় এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর পরিবহন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৮৭ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৬৪ রুপি, যা আগে ছিল ৯৭.৭৭ রুপি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৯১.৫৮ রুপি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ৩ রুপি দাম বাড়ানোর ফলে তেল কোম্পানিগুলোর দৈনিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি রুপি কমেছে। তবে এরপরও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), পেট্রল ও ডিজেল বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনিক সম্মিলিত লোকসান প্রায় ৭৫০ কোটি রুপি। আজকের মূল্যবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও লোকসানের ধকল পুরোপুরি কাটছে না।
বিভিন্ন শহরে দামের তুলনা
ভারতের বড় শহরগুলোর মধ্যে জ্বালানির দাম সবথেকে বেশি বেড়েছে কলকাতায়। সেখানে পেট্রোলের দাম ৯৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১০৯.৭০ রুপি। আর ডিজেল ৯৪ পয়সা বেড়ে এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯৬.০৭ রুপিতে। চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম ৮২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৪৯ রুপি এবং ডিজেল ৮৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৬.১১ রুপি। দেশটির চারটি প্রধান মেট্রো শহরেই পেট্রোল ও ডিজেল উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য হারে দাম বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বাজার বিশ্লেষক ও ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক সেহুল ভাট বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে খুচরা মূল্যের ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় একবারে দাম না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানোর এই নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। ফলে এককালীন বড় ধরনের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর এর চাপ থেকেই যাচ্ছে। ডিবিএস ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ রাধিকা রাও বলেন, পেট্রল ও ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরাসরি মূল্যস্ফীতি ১৫ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। এর বাইরে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর একটি পরোক্ষ প্রভাবও পড়বে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভারতের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এর আগে, গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৭০ ডলারে বিক্রি হওয়া অপরিশোধিত তেল চলতি বছরের এপ্রিল মাসে গড়ে ১১৪ ডলারে পৌঁছায় এবং মে মাসে তা প্রায় ১০৭ ডলারে ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় চার বছর দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর ওপর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



