বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য ও বঞ্চনার প্রতিবাদে দিনে এক ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। একই সঙ্গে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি এবং গ্রাহকসেবা ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন থেকে আজ শনিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল রোববার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৬ হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী প্রতিদিন অতিরিক্ত এক ঘণ্টা করে কাজ করবেন। সংগঠনটির দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় সেবায় প্রায় ৭ লাখ ৮২ হাজার অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা যুক্ত হবে।
সমিতির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ জুন সংগঠনের ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, বকেয়া বিল আদায় ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে ২০২৪ সালের শুরু থেকে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন। এ সময় সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক কমিটি গঠন করা হয় এবং সুপারিশও প্রণয়ন করা হয়। দাবি উত্থাপনের কারণে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে আদালত অব্যাহতি দিয়েছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সব ধরনের শাস্তি প্রত্যাহারের নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চাকরিচ্যুত ৪৬ কর্মকর্তা–কর্মচারীকে পুনর্বহালের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংগঠনটির মতে, বিদ্যমান সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান হলে গ্রামীণ বিদ্যুৎ–ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বাড়বে।



