বাংলাদেশে নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা কেনার কথা ভাবতে পারেন। ১ জুলাই থেকে একই ফোনের দাম কয়েক হাজার টাকা বেশি হতে পারে।
শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে
গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক ১৫% কমিয়ে দেয়, যাতে দাম কমিয়ে বৈধ বাজার চাঙ্গা করা যায়। কিন্তু এই কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। সরকার শেষ মুহূর্তে মেয়াদ না বাড়ালে ১ জুলাই থেকে আমদানি শুল্ক আগের স্তরে ফিরে যাবে, যা খুচরা বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করবে।
এমআইওবির সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন শিল্প মালিক সমিতি (এমআইওবি) সম্প্রতি বিটিআরসিকে একটি জরুরি চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, এই কর সুবিধা প্রত্যাহার হলে বৈধভাবে আমদানি করা ফোনের মোট করের বোঝা দাঁড়াবে ৬৪.২৫%। এমআইওবির মতে, এর ফলে খুচরা স্মার্টফোনের দাম ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গ্লোবাল প্রাইস চাপ
এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ জানিয়েছেন, মেমোরি চিপ, মাদারবোর্ড, সিপিইউ ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের দাম ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে বাড়ছে। উৎপাদনকারীরা দাম কম রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে স্থানীয় কর বৃদ্ধি মিলে ভোক্তাদের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।
বাজেটে নেই বাড়ানোর প্রস্তাব
সরকার নতুন প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এই কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেনি, যা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। শেষ মুহূর্তে কোনো হস্তক্ষেপ হবে কি না, তা নিয়ে অপেক্ষা চলছে।
ধূসর বাজার বাড়তে পারে
দাম বৃদ্ধি সরকারের ঠেকানোর চেষ্টা করা 'অননুমোদিত' বা ধূসর বাজারকে বাড়িয়ে দিতে পারে। গত এক দশকে বাংলাদেশ স্থানীয় মোবাইল উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলি শিল্প গড়ে তুললেও উচ্চ-মূল্যের মডেল যেমন অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মোটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমি স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় না। জটিল সাপ্লাই চেইন ও কম বাজারের কারণে এগুলো আমদানি করেই কিনতে হয়।
এনইআইআর ও কর ছাড়
এ বছর বিটিআরসি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করে ধূসর বাজার দমনে এবং সরকারের রাজস্ব পুনরুদ্ধারে। জানুয়ারির ১৫% কর ছাড় এনইআইআরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয়নি। কর ছাড়ের পরও ফোন ব্র্যান্ডগুলো দাম ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়, চিপের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করে। ঢাকার বড় শপিং মলগুলোতে এখনও খোলামেলাভাবে অননুমোদিত ফোন বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব
আইটি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর এই প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্মার্টফোন আর বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, উপার্জন ও ডিজিটাল সেবা পাওয়ার প্রবেশদ্বার। বেশি দাম মানুষকে ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তিনি যুক্তি দেন, ভারী কর না দিয়ে স্মার্টফোনকে ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে সাশ্রয়ী রাখা উচিত।
এখন পুরো মোবাইল বাজার অপেক্ষা করছে, সরকার ১ জুলাইয়ের আগে শেষ মুহূর্তের কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না।



