বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমানে নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য লাইসেন্স গ্রহণ থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে মোট ৩৫৫ দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়সীমাকে মাত্র ১৪ দিনে নামিয়ে আনা হবে।
সময়সীমা কমাতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি
মন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবসা শুরু করতে যেসব লাইসেন্স ও পারমিশন লাগে, সেগুলো পাওয়া ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সও যাতে কম সময়ে পাওয়া যায়, তাও নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (২৪ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি সরবরাহ ও কৌশলগত রিজার্ভ
দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেল এবং সয়াবিন তেলসহ আমদানিনির্ভর বিভিন্ন পণ্যের ‘কৌশলগত রিজার্ভ’ নিশ্চিত করবে সরকার।
এমএসএমই খাতের অবদান ও প্রণোদনা
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক সুমারী অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার অধিকাংশই এমএসএমই খাতের। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ।
মুক্তাদির আরও বলেন, আগামী বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ঋণ ও বিশেষ তহবিল
তিনি বলেন, এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



