কয়রায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, আটক ১
কয়রায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, আটক ১

খুলনার কয়রায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ–সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

আটক যুবক ও তার অবস্থা

এ ঘটনায় রবিউল সরদার (২৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি কয়রা সদর ইউনিয়নের পায়রাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার দাবি করেছে, তিনি অসুস্থ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। আটক রবিউলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি হয়নি। বুধবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি। এলাকার কিছু লোক তাঁকে উসকানি দিয়ে সকালে বিদ্যুৎ অফিসে পাঠিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

হামলার বিবরণ

ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের নিচতলার সব কটি জানালার থাই গ্লাস ভাঙা। কার্যালয়ের চারপাশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে কাচের টুকরা। কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আটক রবিউলের বাবা রুস্তম সরদার। ক্ষতিগ্রস্ত জানালাগুলোর ক্ষতিপূরণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন কর্মকর্তারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান খান বলেন, সকালে হঠাৎ নিচতলার দিকে জানালার গ্লাস ভাঙার শব্দ শুনে তাঁরা নিচে নেমে আসেন। তখন দেখেন, এক যুবক ইট দিয়ে অফিসের জানালার গ্লাস ভাঙছেন। নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে আটকাতে গেলে ওই যুবক হাতে থাকা ইট দিয়ে আঘাত করেন। এতে নিরাপত্তাকর্মী মাটিতে পড়ে যান। পরে অফিসের অন্য কর্মীরা বেরিয়ে এসে তাঁকে আটক করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, আটক যুবক বারবার অভিযোগ করছিলেন, কয়রায় বিদ্যুৎ না থাকার জন্য বিদ্যুৎ অফিস দায়ী। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। আটকের পরও তিনি বলছিলেন, তাঁর সঙ্গে আরও লোকজন রয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থলে আসছে।

ঘটনার বিষয়ে কয়রা জোনাল কার্যালয়ের অফিস সহকারী মেহেদী হাসান বলেন, ভাঙচুরের শব্দ শুনে নিচে এসে তাঁরা দেখেন, ওই যুবক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীকে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরেন। পরে কয়েকজন কর্মী মিলে তাঁকে আটক করেন।

পুলিশের বক্তব্য

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে। বিদ্যুৎবিভ্রাটের ক্ষোভ বা অন্য কোনো প্ররোচনার কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই

ওই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে কয়রার দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ–সংকটের বিষয়টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য ঝড়ো হাওয়া কিংবা বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও লো-ভোল্টেজের কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, পুরোনো সঞ্চালন লাইনের সমস্যার কথা বহু বছর ধরে শুনছেন এলাকাবাসী। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী, শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, কয়রার বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি সাতক্ষীরা গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল। সাতক্ষীরা থেকে আশাশুনি হয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। নদী, খাল ও চিংড়িঘেরের মধ্য দিয়ে যাওয়া পুরোনো এই লাইনে প্রায়ই ত্রুটি দেখা দেয়। কোনো সমস্যা হলে তা শনাক্ত ও মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান খান বলেন, অনেকের ধারণা খুলনা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আনা সম্ভব। কিন্তু দূরত্ব আরও বেশি হওয়ায় সে ক্ষেত্রে ভোল্টেজ কমে যাবে এবং সরবরাহ আরও অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

মাহফুজুর রহমান খান জানান, কয়রার বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পাশের পাইকগাছা উপজেলায় নতুন পাওয়ার গ্রিড নির্মাণ এবং কয়রায় একটি উপকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।