হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে বিএসসির 'বাংলার জয়যাত্রা', অনিশ্চয়তা কাটল
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে 'বাংলার জয়যাত্রা'

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে নোঙর তুলেছে 'বাংলার জয়যাত্রা'

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে তৃতীয় দফায় নোঙর তুলেছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজটি রওয়ানা হয়। জাহাজে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন, যারা এখন নিরাপদে যাত্রা করছেন।

জাহাজের অবস্থান ও গতি

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক রাতে জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্রোতের শুরুতেই অবস্থান করছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি, যা ঘণ্টায় নয় নটিক্যাল মাইল গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

ক্যাপ্টেন ও প্রকৌশলীর বক্তব্য

জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাতে বলেন, 'ইরানি বাহিনীর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় আমরা হরমুজের পথে আছি।' এদিকে, প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে, যেখানে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের অনিশ্চয়তা ও বর্তমান অবস্থা

বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল এবং এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কিন্তু সেবার অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ পার হওয়া সম্ভব হয়নি। অনুমতি না পেয়ে জাহাজটিতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে সার বোঝাই করা হয়। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হয় জাহাজটি, ফলে এটি হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল। এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে এবং জাহাজটি এখন নির্বিঘ্নে যাত্রা করছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলপথে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুলছে।