ঈদে জামুনা সেতুতে যানজটের রেকর্ড: ৯ দিনে ২৭৯,৫৭৯ গাড়ি, টোল ১৯.৪৯ কোটি টাকা
ঈদ-উল-ফিতরের সময় জামুনা সেতুতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ রেকর্ড করা হয়েছে। সরকারি ছুটির আগেই ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যানজটের চূড়ান্ত পর্যায় ছিল গত বুধবার।
যানবাহন ও টোল আদায়ের বিশদ তথ্য
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নয় দিনের এই সময়ে মোট ২৭৯,৫৭৯টি যানবাহন জামুনা সেতু পার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১৯.৪৯ কোটি টাকা। গত বুধবার ছিল এই সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন, যেদিন ৫১,৫৮৪টি যানবাহন পার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৩.৫১ কোটি টাকা। এটি ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৈনিক টোল আদায়ের রেকর্ড।
দৈনিক যানবাহন চলাচলের চিত্র
সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে যানবাহন চলাচলের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
- রবিবার: ২৫,৪৪০টি যানবাহন, টোল ২.৩০ কোটি টাকা
- সোমবার: ৩৫,৬৫৮টি যানবাহন, টোল ২.৮৪ কোটি টাকা
- মঙ্গলবার: ৪৬,৯৪৩টি যানবাহন, টোল ৩.৩৯ কোটি টাকা
- বুধবার: ৫১,৫৮৪টি যানবাহন, টোল ৩.৫১ কোটি টাকা
- বৃহস্পতিবার: ৪৫,৬১০টি যানবাহন, টোল ৩.২৭ কোটি টাকা
- শনিবার (ঈদের দিন): ১৩,৯০৬টি যানবাহন, টোল ৬১.১৪ লাখ টাকা
- রবিবার (ঈদের পরের দিন): ১৮,৩২৫টি যানবাহন
- সোমবার: ২৫,১৪৬টি যানবাহন
উত্তর ও দক্ষিণমুখী যানবাহনের বিভাজন
রবিবারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তরমুখী যানবাহন ছিল ১২,৯১৮টি, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ১.১৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঢাকামুখী যানবাহন ছিল ১২,৪৫৯টি, যার টোল আদায় হয়েছে ১.১৬ কোটি টাকা। সোমবারের তথ্যে দেখা যায়, উত্তরমুখী যানবাহন ছিল ২০,০৭৫টি এবং ঢাকামুখী যানবাহন ছিল ১৫,৫৮৩টি।
সেতু কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জামুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এ বছরের যানবাহন চলাচলের বিশাল পরিসর নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেতুর দুই প্রান্তে মোট ১৮টি টোল বুথে সাধারণভাবে কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে কিছু অস্থায়ী বিলম্ব হয়েছে যানবাহন ভেঙে পড়া এবং বৃষ্টি সম্পর্কিত দুর্ঘটনার কারণে।
জামুনা সেতুর টোল ব্যবস্থাপনার ইতিহাস
জামুনা সেতু ১৯৯৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে টোল ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে। পূর্বে কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস) টোল আদায় পরিচালনা করত। সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের শেষের দিকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন টোল কার্যক্রম গ্রহণ করে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ছুটির আগেই ১৫ মার্চ থেকে ঈদের যানজট শুরু হয়েছিল। ১৭ মার্চ সকালের মধ্যে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। ঈদ উদযাপনের আগে ও পরে এই উচ্চমাত্রার যানবাহন চলাচল অব্যাহত ছিল।



