স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজারের বেশি ইউজ পারমিট ইস্যু, রপ্তানি বাণিজ্যে গতি
স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজারের বেশি ইউজ পারমিট ইস্যু

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজারের বেশি ইউজ পারমিট ইস্যু

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসে প্রায় ২৫,০০০ ইউজ পারমিট (ইউপি) অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। এনবিআর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সূচনা

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামক একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারটির মূল উদ্দেশ্য হলো বন্ড সুবিধাভোগী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল ধরনের সেবা অনলাইনে প্রদান করা।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে বন্ডেড গুদাম লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো করমুক্তভাবে আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনলাইনে ইউজ পারমিট সংগ্রহ করতে পারছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সংযোগ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সফটওয়্যারটি আমদানি ও রপ্তানি দলিলের অনলাইন যাচাই সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, বন্ড সুবিধাভোগী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।

বাধ্যতামূলক ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইউজ পারমিট ইস্যুসহ সকল সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ ও প্রদানের জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপর থেকে এনবিআরের অধীন তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে সকল ইউজ পারমিট অনলাইনে ইস্যু করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত এই তিনটি কমিশনারেট থেকে মোট ২৪,৯৬৩টি ইউজ পারমিট অনলাইনে ইস্যু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সুবিধা

এনবিআর জানিয়েছে যে, ইউজ পারমিট অনলাইনে ইস্যুর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও মসৃণ করতে বন্ড সুবিধাভোগী শিল্প, বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস রিবেট অ্যান্ড ড্রব্যাক ডিরেক্টরেট এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সংশ্লিষ্ট অনলাইন সিস্টেমের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

রাজস্ব বোর্ডের ধারণা, এই সিস্টেমের মাধ্যমে ইউজ পারমিট অনলাইনে ইস্যু হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সময় ও খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। এর ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল হয়ে উঠছে এবং বিনিয়োগ পরিবেশও উন্নত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কাস্টমস প্রশাসন আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার অংশ হিসেবে বন্ড অডিটসহ বন্ড ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল সেবাকে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাণিজ্য সহায়ক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ডিজিটাল রূপান্তর শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।