বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে বড় অগ্রগতি: রানার অটোমোবাইলসের সাথে বিওয়াইডির কৌশলগত চুক্তি
দেশের অটোমোবাইল শিল্পে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সরবরাহ ও উৎপাদন চুক্তি। রানার গ্রুপের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে বিওয়াইডি ব্র্যান্ডের গাড়ি সরবরাহ ও উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে।
চুক্তি অনুমোদন ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রানার অটোমোবাইলস জানিয়েছে, বিওয়াইডির সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করার বিষয়টি ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত কোম্পানির বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের সভায় অনুমোদন লাভ করেছে। উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ইলেকট্রিক গাড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই চুক্তির মাধ্যমে।
বোর্ডের আশাবাদ ও বাজার প্রতিক্রিয়া
বোর্ড সদস্যরা বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণে বিওয়াইডির সুনামের কথা উল্লেখ করে এই কৌশলগত সহযোগিতার ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চুক্তির ঘোষণার পরপরই শেয়ার বাজারে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার দামে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
ডিএসই-এর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির শেয়ার দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭.৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী কার্যদিবসে এটি ৩৪.১০ টাকায় অবস্থান করছিল। এই উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা ও উৎসাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশে বিওয়াইডির পূর্ববর্তী কার্যক্রম
উল্লেখ্য, বিওয়াইডি ২০২৪ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি শুরু করে। এরপর থেকে রানার গ্রুপের অন্য একটি কোম্পানি সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড বিওয়াইডির ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করে আসছে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে এখন সরাসরি উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে রানার অটোমোবাইলস।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব যানবাহন খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করবে। স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দামও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে।



