নাটোরে আসাদ আলীর জিলাপি ব্যবসা: এক হাজার টাকা থেকে সফল উদ্যোক্তার গল্প
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিয়াশ গ্রামের বাসিন্দা আসাদ আলী (২৫) আজ একজন সফল জিলাপি ব্যবসায়ী। চার বছর আগে মাত্র এক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই ব্যবসা এখন তাঁর পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্যের মূল উৎস। দিনে প্রায় দুই হাজার টাকা লাভ করে তিনি শুধু নিজের সংসারই চালাচ্ছেন না, বরং স্থানীয় যুবকদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
দিনমজুরি থেকে জিলাপি কারিগর: একটি অনুপ্রেরণামূলক রূপান্তর
আসাদ আলীর জীবন এক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। জায়গাজমি না থাকায় তিনি অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন। দিনমজুরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে তিন বেলার খাবার জোটানোও কঠিন ছিল। পড়ালেখা না জানা এবং চাকরির সুযোগ না থাকায় তিনি হতাশায় ভুগতেন। তবে চার বছর আগে একটি সুযোগ তাঁর জীবন বদলে দেয়। স্থানীয় একটি ঈদমেলায় এক জিলাপি বিক্রেতার সঙ্গে আলাপ হয়, যিনি তাঁকে জিলাপি বানিয়ে বিক্রির পরামর্শ দেন এবং মাত্র এক হাজার টাকায় এই কাজ শুরু করা সম্ভব বলে জানান।
আসাদ আলী বলেন, “বউয়ের জমানো এক হাজার টাকা দিয়ে আমি আটা, তেল ও চিনি কিনে জিলাপি তৈরি শুরু করি। প্রথম দিনেই ১০ কেজি জিলাপি বিক্রি করে ৩০০ টাকা লাভ করি, যা দিনমজুরি করে পেতাম না।” দ্রুত তিনি মচমচে ও মজাদার জিলাপি তৈরির কলাকৌশল আয়ত্ত করে নেন এবং বিয়াশ চার রাস্তার মোড়ে নিজের দোকান স্থাপন করেন।
ব্যবসার বিস্তার ও সামাজিক স্বীকৃতি
আসাদ আলীর জিলাপির খ্যাতি এখন আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন তিনি ৪০ থেকে ৬০ কেজি জিলাপি বিক্রি করেন, যার বাইরে মিলাদ-মাহফিল, দোয়ার অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আগাম বায়না পান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এক কেজি চিনির জিলাপি তৈরি করতে ৯০ টাকা খরচ হয় এবং তা ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়, ফলে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা লাভ হয়।
জিলাপি কিনতে আসা হাসমত আলী বলেন, “আসাদের হাতের জিলাপি খুব সুস্বাদু এবং দামও কম, তাই নিয়মিত কিনতে আসি।” বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন যোগ করেন, “আসাদ একজন তরুণ উদ্যোক্তা, যিনি শুধু এক হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন আরেকজন যুবককে চাকরি দিচ্ছেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থায়ী সাফল্য
আসাদ আলীর এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর দোকানটি আরও সুন্দরভাবে সাজানোর। এ জন্য তিনি টাকা জমাচ্ছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান। তাঁর এই সাফল্য শুধু আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই আনে নি, বরং সমাজে মর্যাদাও এনে দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, সামান্য পুঁজি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে। আসাদ আলীর গল্প স্থানীয় যুবকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা, যারা দারিদ্র্য ও সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের পথ তৈরি করতে চায়।



