গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কিস্তির টাকা না দেওয়ায় ব্র্যাকের মাঠকর্মী ছালমা বেগমের বিরুদ্ধে ঋণ গ্রহীতা লাকী বেগমকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ মে) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আমবাগন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লাকী বেগম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আহত অবস্থায় হাসপাতালে
আহত লাকী বেগম ওই ইউনিয়নের পালানপাড়ার মিন্টু মিয়ার স্ত্রী। তাকে পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছালমা বেগম ব্র্যাক ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ধাপেরহাট শাখার মাঠকর্মী।
ঋণ পরিশোধে বকেয়া
লাকী বেগম জানান, কিছুদিন আগে তিনি ব্র্যাক ধাপেরহাট শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সাপ্তাহিক কিস্তিতে তিনি এই টাকা পরিশোধ করছিলেন। সবশেষে ১৫ শত টাকা বকেয়া আছে। তবে কিছুদিন ধরে অভাব অনটনের কারণে তিনি সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা দিতে পারছেন না।
মারধরের ঘটনা
লাকী বেগমের অভিযোগ, বুধবার সকালে ধাপেরহাট বাজারের আমবাগন সড়কে “লিটন মটরস” নামে একটি দোকানের সামনে ব্র্যাক এর মাঠকর্মী ছালমা বেগমের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় তার কাছে বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধের কথা বলেন এনজিও কর্মী। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ছালমা বেগম তাকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এসময় লাকী বেগমের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আসলে ছালমা বেগম চলে যান।
ব্র্যাকের বক্তব্য
ব্রাকের সাদুল্লাপুর এরিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক মো. শাহাবুদ্দিন মারধরের কথা অস্বীকার করে জানান, মাঠকর্মী ছালমা বেগম ওই এলাকায় তার দেখা পেয়ে বকেয়া কিস্তির টাকার জন্য তাগাদা দেন। এতে ঋণ গ্রহীতা লাকী বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
পুলিশি তদন্ত
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এস আই) সুপদ হালদার জানান, দুইপক্ষ পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।



