‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: সিআইআই
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কৌশলের প্রশংসা করে বলেছে, এই নীতির সঙ্গে ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে। সিআইআই মনে করে, এই নীতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

সিআইআইয়ের শীর্ষ প্রতিনিধির বক্তব্য

সোমবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে সিআইআইয়ের সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতীয় শিল্পখাতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বিদ্যমান সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ট্যান্ডন আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতার শক্তিশালী মিল আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই নীতি মূলত দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীল উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো অন্তর্মুখী কৌশল নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে ট্যান্ডন বলেন, ‘এশিয়ায় ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি। বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, অশুল্ক বাধা কমানো ও সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

শিল্প সক্ষমতার পরিপূরকতা

ট্যান্ডন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক, যা সমন্বিত আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল গঠনের সুযোগ তৈরি করছে।’ তিনি জানান, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) শুধু পণ্য বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সেবা, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা উন্নয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। এই চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

খাতভিত্তিক সম্ভাবনা

খাতভিত্তিক সম্ভাবনার বিষয়ে ট্যান্ডন বলেন, ‘তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবেই থাকবে। তবে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, মানদণ্ড, যন্ত্রপাতি ও নকশাগত সক্ষমতার ওপর।’ এছাড়া চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি, নতুন উদ্যোগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতেও সম্প্রসারিত সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের অভিজ্ঞতা ও সিআইআইয়ের প্রতিশ্রুতি

ট্যান্ডন বলেন, ‘ডিজিটাল গণঅবকাঠামো, আর্থিক প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে।’ তিনি বাংলাদেশের অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ব্যবসা-টু-ব্যবসা সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সিআইআইয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সিআইআইয়ের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মনীষ মোহনও বক্তব্য দেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।