বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সরকার ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিদেশি আয়ে ৭.৫% উৎসে কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পরও ব্যাংকিং জটিলতা ও অস্পষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত
কয়েক মাস ধরে স্বাধীন ডিজিটাল পেশাজীবী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও অনলাইন ক্রিয়েটররা যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে বিদেশি রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর তাদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। সরকারের কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ডিজিটাল রেমিট্যান্স প্রবাহ উৎসাহিত করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো সুষম নয়।
ব্যাংকিং জটিলতা
নীতিগত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও অনেক ফ্রিল্যান্সার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭.৫% কর কেটে নিচ্ছে। এই অসঙ্গতি কেন্দ্রীয় নীতি ও শাখা পর্যায়ের ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তুলে ধরে।
এনবিআরের অবস্থান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই কর কাটা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, "ফ্রিল্যান্সার বা প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর কাটার কোনো বিধান আমাদের বর্তমান কর আইনে নেই।"
ব্যাংকগুলোর প্রতিক্রিয়া
এনবিআরের এই বক্তব্যের পর ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা আইটি ফ্রিল্যান্সিং রেমিট্যান্সের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার করেছে এবং আগে কাটা কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক জানান, কর সংক্রান্ত সব বিষয় এনবিআরের এখতিয়ারে পড়ে। ব্যাংকগুলো এনবিআরের সার্কুলার অনুযায়ী কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্পষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে ব্যাংক কমপ্লায়েন্স অফিসার ও কর মূল্যায়নকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে।



