বগুড়ায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতির কর্মকর্তা
বগুড়ায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমিতির লোকজন

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ‘সূর্যের আলো সমবায় সমিতি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের অন্তত পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমানত ও জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সমিতি প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৫ সালে সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের কাশাহার গ্রামের ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা ‘সূর্যের আলো সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা কড়িতলা বাজার এলাকায় একটি অফিস স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এছাড়া ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতেও অস্থায়ী কার্যালয় ছিল। তারা অন্যান্য সঞ্চয় সমিতির তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন সমিতিতে টাকা জমা রাখেন। গত কয়েক বছর নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া হলেও গত বছর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।

গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও

লভ্যাংশ ও আমানত ফেরত চেয়ে গ্রাহকরা চাপ দিলে গত বছরের ১৪ আগস্ট থেকে সমিতির কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন থেকে সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা নিখোঁজ হন। মোবাইল ফোনেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তত ১০০ গ্রাহক তাদের সঞ্চিত প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

বৃহস্পতিবার সকালে কড়িতলা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। বক্তব্য রাখেন হেলেনা, খোদেজা, মুর্শিদা, সুলতান মাহমুদ, জহুরুল ইসলাম, শারমিন প্রমুখ।

ভুক্তভোগী শারমিন বলেন, তার স্বামী সমিতিতে চাকরি করতেন। তিনি সাড়ে সাত লাখ টাকা এফডিআর করেন। তিনি কখনও ভাবেননি টাকা নিয়ে সভাপতি ও সম্পাদক উধাও হবেন। ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা অসহায় গরিব মানুষের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক ভুক্তভোগী মুর্শিদা বলেন, তিনি অত্যন্ত গরিব। শখ ছিল গহনা বানানোর। তাই গরু বিক্রি করে দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। সমিতির লোকজন টাকা নিয়ে গেছেন। প্রথমে কিছুদিন লাভ দিলেও পরে আর দেয়নি। তার দেখাদেখি মেয়ে দিপা দুই লাখ টাকা ও ছেলে সুলতান মাহমুদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছেন। টাকা ফেরত না পেলে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন। তিনি পলাতক সভাপতি ও সম্পাদকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম বলেন, তার বড় ভাই প্রতিবন্ধী। তিনি রুটির কারখানায় কাজ করেন। লাভের আশায় সমিতিতে এক লাখ টাকা জমা করেছিলেন। বারবার টাকা ফেরত চাইলেও সভাপতি ও সম্পাদক দেননি। এখন তারা নিখোঁজ। টাকার চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

সারিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর টাকা ফেরত দিতে যোগাযোগ করা হয়েছে; কিন্তু সভাপতি বা সম্পাদক তার সঙ্গে দেখা করেননি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে আইনগত সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সারিয়াকান্দি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আলম বলেন, বিষয়টি শুনেছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, তার কাছে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। আমানতকারীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিধিমোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইল ফোন বন্ধ ও বাড়িতে না থাকায় সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।