পুলিশের চাকরি ‘ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলা ওসির অডিও ভাইরাল, প্রত্যাহার
পুলিশের চাকরি ‘বিজনেস’ বলা ওসির অডিও ভাইরাল, প্রত্যাহার

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’। এই ঘটনায় রোববার (৩১ মে) তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অডিওতে যা বলা হয়েছে

শনিবার (৩০ মে) রাত ৮টার পর প্রায় চার মিনিট চার সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক ব্যক্তিকে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যাকে অনেকে ওসি আবুল হাশেম বলে চিহ্নিত করেছেন। ভাইরাল অডিওতে তিনি বলেন, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন, দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

বক্তব্যের আরও অংশ

অডিওতে আরও বলা হয়, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাইকে সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না। আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে, তারা যে যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওসির অস্বীকৃতি

তবে ওসি মো. আবুল হাশেম ভাইরাল অডিওতে নিজের বক্তব্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি তো জানি না। এ রকম কথা তো আমি কোথাও বলিনি। এখন আপনি যেমন জানছেন, আমিও তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার তো মনে হয় না, এমন কথা আমি কোথাও বলেছি।’

পুলিশের ব্যবস্থা

অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেয়। ওসি আবুল হাশেমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’