বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে দেশের অর্থনীতি চাঙা, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণাটি খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রণোদনা প্যাকেজের সুদের হার
প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এটিও একটি কার্যকর উদ্যোগ। কারণ, অন্যান্য অনেক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ১৪-১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে যেকোনো ব্যবসাকে লাভজনক করা কঠিন। সে ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ সুদ পেলেও উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তির মধ্যে থাকবেন।
অর্থের অপচয় রোধে নজরদারি
তবে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের অপচয় যেন না হয়, সেটি কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যাঁরা ব্যবসা থেকে বেরিয়ে গেছেন কিংবা যাঁদের ব্যবসা করার সক্ষমতা নেই, তাঁদের ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আসলে প্রণোদনা প্যাকেজের ভালো অর্থ যেন মন্দ (ঋণ) না হয়।
চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা
বন্ধ কারখানার পাশাপাশি চলমান ব্যবসা–বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার জন্যও বিশেষ তহবিল দরকার। কারণ, বর্তমান সময়ে প্রতিটি ব্যবসা-বাণিজ্য সংকটে ভুগছে। সবচেয়ে বড় সংকট জ্বালানি। বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা অনুযায়ী পণ্য জাহাজে তুলে দিতে লোডশেডিংয়ের মধ্যেও উচ্চ মূল্যে ডিজেল কিনে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে হচ্ছে।
ব্যাংকঋণের সুদের হার ও খরচ
এ ছাড়া অনেক দিন ধরেই ব্যাংকঋণের সুদের হার ১৪-১৫ শতাংশ। ব্যবসায় খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেতন-ভাতা দিতে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় অনেক কারখানার চলতি মূলধন, প্যাকিং ক্রেডিট ইত্যাদির জন্য তহবিল দরকার।
এম এ জব্বার: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিবিএল গ্রুপ



