আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা।
লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে, সেসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।' তবে আর্থিক সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে জানান।
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন প্রণয়ন
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে “ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।'
সংকটের কারণ ও চলমান উদ্যোগ
প্রসঙ্গত, গত দেড় বছরে দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনে চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে না পারা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ করেন। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা চিহ্নিত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক এরই অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তব্যাংক সহায়তা এবং নীতিগত সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে আসছে।



